‘প্রিন্টিং মার্কেটকে ডিজিটাল যুগের জন্য ঢেলে সাজাবার কাজ করছি’

টেক্সটাইল প্রিন্টিং ইন্ডাস্ট্রিতে ধাভাল কালার কেম (ডিসিসি) প্রিন্ট ভিশন এলএলপি একটি বিশ্বস্ত নাম। এশিয়ার বিভিন্ন দেশে ডিসিসি-এর বিস্তর পরিসরে ওয়ান স্টপ সল্যুশন নিয়ে ৪০ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে। বাংলাদেশের টেক্সটাইল প্রিন্টিং ইন্ডাস্ট্রিকে আরও শক্তিশালী করতে অামরা বাংলাদেশে একটি আন্তর্জাতিক মানের প্রিন্টিং স্টুডিও স্থাপন করেছি। ডিসিসিকে দ্রুত সম্প্রসারণের মাধ্যমে বাংলাদেশের টেক্সটাইল প্রিন্টিং মার্কেটকে ডিজিটাল যুগের জন্য ঢেলে সাজাবার কাজ করছে। ডিসিসি গ্রুপ এখন প্রযুক্তিগত দিক দিয়ে সম্প্রসারিত হচ্ছে।
প্রযুক্তিকথন ডটকমের সিনিয়র রির্পোটার অঞ্জন চন্দ্র দেব’র সাথে একান্ত স্বাক্ষাতকারে  ডিসিসি’র বাংলাদেশের কান্ট্রি ম্যানেজার এইচ এন আশিকুর রহমান বাংলাদেশে ডিসিসির কার্যক্রম, সফলতা, সমস্যা, রপ্তানি, অাগামীর পরিকল্পনা বিস্তারিত বিষয় তুলে ধরেন।

প্রযুক্তিকথন:   আমরা ইতিমধ্যেই জেনেছি, সম্প্রতি আপনারা বাংলাদেশে কার্যক্রম শুরু করেছেন, কী লক্ষ্য নিয়ে আপনারা যাত্রা শুরু করলেন?

আশিকুর রহমান: ইদানিংকালের গার্মেন্টস পণ্যগুলো দিনদিন ভ্যালু অ্যাডেড পণ্য হচ্ছে। এখন আর কেউ মৌলিক পোশাক নিয়ে কাজ করে না। বাংলাদেশই শুধু বেসিক পণ্য নিয়ে কাজ করে। বাংলাদেশ যে পণ্য দুই ডলারে বিক্রি করে ভারত, ভিয়েতমান, চীনের মতো দেশ সেগুলো পাঁচ ডলারে রপ্তানি করছে। শুধু ভ্যাল্যু অ্যাডিশনের কারণে। ভ্যালু অ্যাডিশনের গুরুত্বপূর্ণ একটি মাধ্যম হচ্ছে প্রিন্টিং। গার্মেন্টস পণ্যসমূহ যেমন, টি-শার্ট, পোলো শার্ট ইত্যাদি পণ্যগুলোতে যদি বিভিন্ন ধরনের প্রিন্টিং বিশেষ করে ডিজিটাল প্রিন্টিং যুক্ত করা যায় তাহলে সেগুলোর ভ্যালুই আলাদা হয়ে যাবে। বাংলাদেশ এই টেক্সটাইল প্রিন্টিংয়ের ক্ষেত্রে অনেক পিছিয়ে রয়েছে। প্রিন্টিংয়ের মান ভালো হওয়ার জন্য ইন্টিগ্রেশনটা জরুরি, যেমন- কাগজ, কালি, প্রিন্টিং মেশিন ইত্যাদি। এই ইন্টিগ্রেশন সেবা দেওয়ার মতো কোনো প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশে ছিলো না। আর সে করণেই বাংলাদেশ বিদেশী ক্রেতাদের কাছ থেকে অর্ডার কম পাচ্ছে। এই অভাব পূরণ করতেই আমরা বাংলাদেশে যাত্রা শুরু করেছি।

এছাড়াও আরও কারণ হচ্ছে, বিদেশী ক্রেতাদের অর্ডারের জন্য তাদের কিছু নমুনা দিতে হয়। যেহেতু বাংলাদেশে এই টেক্সটাইল প্রিন্টিংয়ের অভাব রয়েছে তাই বাংলাদেশী বিক্রেতার সেই নমুনা তৈরির জন্য ভারত, চীনসহ বিভিন্ন দেশ থেকে প্রিন্ট করে নিয়ে আসে। তখন, সময় এবং অর্থ দু’টোই বেশি খরচ হয়। আমরা বাংলাদেশে সেটি মাত্র তিন ঘণ্টার মধ্যে করে দিচ্ছি একদম বিনামূল্যে। যার ফলে, বাংলাদেশেই এই টেক্সটাইল প্রিন্ট হলে আগে যেটা দুই ডলারে বিক্রি করা হতো এখন একই পণ্য শুধু ডিজিটাল প্রিন্টিংয়ের কারণে পাঁচ ডলারে বিক্রি করতে পারছে। এটিই আমাদের চুড়ান্ত লক্ষ্য।

প্রযুক্তিকথন:  আপনার ব্যবসায়িক নেটওয়ার্ক কী? মানে, আপনার অধিভুক্ত প্রতিষ্ঠান কোনগুলো এবং আপনি আর কোন কোন দেশে কার্যক্রম শুরু করতে যাচ্ছেন?
আশিকুর রহমান: আমি আগেই বলেছি, এটি একটি ইন্টিগ্রেটেড সেবা। সেজন্য এতে, কালি, প্রিন্টার, হিট প্রেস মেশিন, কাগজ এবং সফটওয়্যার দরকার। ডিসিসি কালি প্রস্তুত করে। আমেরিকা এবং ভারতে আমাদের কালি উৎপাদনকারী প্ল্যান্ট রয়েছে এবং বিশ্বের এক নম্বর কালির ব্র্যান্ড আমরা। বিশ্বের এক নম্বর প্রিন্টিং মেশিন প্রস্তুত করে জাপানের এপসন। প্রিন্টারের জন্য এপসনের বিশ্বব্যাপি পার্টনার আমরা। হিট প্রেস মেশিনের জন্য আমরা বিশ্বের এক নম্বর ব্র্যান্ড ইতালির মন্টেন্টিনিউ-এর সাথে কাজ করি। এই মেশিনে সারা জীবনে কোনো রক্ষণাবেক্ষণের দরকার হয় না। কাগজের জন্য আমরা হলান্ডের কোল্ডেনো এর সাথে কাজ করি। এটিকে আমরা ব্ল্যাক হর্স নামে রিব্র্যান্ড করি। সফটওয়্যারের জন্য ওয়াসেস-এর সাথে কাজ করি। অর্থাৎ, প্রিন্টিং এর জন্য যেসব সামগ্রী দরকার, সেগুলোর জন্য বিশ্বের এক নম্বর ব্র্যান্ডগুলোর সাথে আমরা কাজ করি। এই সবগুলোর ইন্টিগ্রেশন করে আমরা বাংলাদেশে সেবা দেওয়া শুরু করেছি।

প্রযুক্তিকথন:   আপনাদের মেশিনের বিশেষত্ব কী এবং সেগুলোর উৎপাদন ক্ষমতা কেমন?
আশিকুর রহমান: আমাদের মেশিনের উৎপাদন ক্ষমতা হচ্ছে, এই মেশিনগুলো দ্বারা প্রতি ঘণ্টায় সর্বনি¤œ ৬৫ মিটার স্কয়ার এবং সর্বোচ্চ ৪০০ স্কয়ার মিটার উৎপাদন সম্ভব। প্রতি ঘণ্টায় ৪০০ স্কয়ার মিটার অনেক বেশি এবং এর গুণগত মান অবশ্যই অন্য যেকোনো প্রতিষ্ঠানের চেয়ে অনেক বেশি। আমাদের মেশিনগুলোর বিদ্যুৎ খরচ এতো কম যে, বাসা-বাড়ির টেলিভিশন বা কম্পিউটারে যেমন বিদ্যুৎ খরচ হয় ঠিক তেমনই এই মেশিনগুলোরও বিদ্যুৎ খরচ।

প্রযুক্তিকথন: আপনারা কী ধরনের প্রশিক্ষণ দিচ্ছেন?
আশিকুর রহমান: কারখানায় যেসব মেশিন চলে সেগুলোর জন্য অবশ্যই প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত কর্মী দরকার। আমরা কারখানা থেকে কর্মীদের নিয়ে এসে এখানে প্রশিক্ষণ প্রদান করছি। আমরা তাদের ডিজাইন ডেভেলপ করা, মেশিন চালানো, কালার কেলিব্রেশন ইত্যাদি বিষয়ে অর্থাৎ মেশিনের মৌলিক বিষয়গুলো এবং এটি চালানো পদ্ধতি শেখাচ্ছি। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো- এই মেশিনগুলো চালানো খুবই সহজ। একটি সাবলিমেশন বা একটি প্রিন্টিং ইউনিট চালাতে সর্বোচ্চ তিনজন লোক দরকার হয়, একজন ডিজাইনার, একজন প্রোডাকশনে এবং একজন অপারেশনে। মাত্র ৮০০ স্কয়ার ফুট জায়গার মধ্যে এই প্রযুক্তি স্থাপন করা সম্ভব। সবচেয়ে মজার বিষয় হচ্ছে, এই মেশিনে কোনো পানির প্রয়োজন নেই।

প্রযুক্তিকথন: এ পর্যন্ত আপনারা কতগুলো প্রশিক্ষণ পর্ব সম্পন্ন করেছেন?
আশিকুর রহমান:  মূলত আমরা কারখানাগুলোতে খবর নেই এবং প্রতিষ্ঠানগুলোতে জানাই তারা আগ্রহী কিনা। প্রতিষ্ঠানের প্রধানদের জানানোর পর তারা তাদের প্রতিষ্ঠান থেকে যেকোনো একজন মনোনিত করে পাঠান। সেই মনোনতি ব্যক্তি আমাদের এখানে এসে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে তিন দিনের প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। আমাদের কাছ থেকে প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত ব্যক্তিদের মান যাচাই করে সনদপত্র দেয় বিজিএমইএ-এর প্রতিষ্ঠান সিবাই, যাতে প্রশিক্ষণটি মানম্পন্ন হয়।

 

প্রযুক্তিকথন: আপনারা বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত কী পরিমাণ প্রতিষ্ঠানের সাথে যুক্ত হয়েছেন?
আশিকুর রহমান:  ডিসিসি বাংলাদেশে কার্যক্রম শুরুর আগেই বাংলাদেশের গ্রাহকরা ভারতে গিয়ে ডিসিসি-এর সাথে কাজ করত। বাংলাদেশের বড় বড় প্রতিষ্ঠানগুলো ভারতে গিয়ে ডিসিসি-এর কাছ থেকে সেবা ও প্রশিক্ষণ গ্রহণ করতো। এক পর্যায়ে বাংলাদেশী গ্রাহকদের ধারাবাহিক অনুরোধের পর ডিসিসি বাংলাদেশে কার্যক্রম শুরু সিদ্ধান্ত নেয়, যাতে গ্রাহকরা এক ঘণ্টার মধ্যেই প্রিন্টিংয়ের সমাধান ও সেবাসমূহ উপভোগ করতে পারে।

প্রযুক্তিকথন:  ডিসিসি বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতে কী পরিমাণ সহায়তা দিচ্ছে?
আশিকুর রহমান: বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতের স্বপ্ন হচ্ছে ২০২১ সালের মধ্যে ৫০ বিলিয়ন ডলার রপ্তানি করবে। বর্তমানে আমরা রপ্তানি করি ২৮ বিলিয়ন ডলার। এই স্বপ্ন পূরণের জন্য হয় আমাদের গার্মেন্ট শিল্পের সংখ্যা বাড়াতে হবে অথবা পোশাকের মূল্য বাড়াতে হবে। সেক্ষেত্রে আমাদের রপ্তানি করা পোশাগুলোতে ভ্যাল্যু অ্যাড করতে হবে, যাতে পোশাগুলোর মূল্য বাড়ে। অর্থাৎ, আমরা যে পোশাকগুলো শুধু সেলাই করে রপ্তানি করছি সেগুলো ভারত, চীন কিংবা ভিয়েতনামে গিয়ে প্রিন্ট হয়। কিন্তু আমরা যদি এই পোশাকগুলোকে প্রিন্ট করে পাঠাতে পারি তাহলে এগুলোর মূল্যও বৃদ্ধি পাবে। আগে আমরা প্রিন্ট ছাড়া পোশাকগুলো দুই ডলারে রপ্তানি করতাম এখন সেগুলোকে প্রিন্টসহ পাঁচ ডলারে রপ্তানি করতে পরবো। এভাবেই খুব সহজে আমরা পোশাক শিল্পের লক্ষ্য অর্জ করতে পারবো। আমরা সেই লক্ষ্য অর্জনেই কাজ করছি।

প্রযুক্তিকথন: পাঁচ বছর পরে বাংলাদেশের বাজারে আপনি আপনার প্রতিষ্ঠানকে কোন পর্যায়ে দেখতে চান?
আশিকুর রহমান: আমি আগামী পাঁচ বছর পরে দেখতে চাই যে, আমাদের তৈরি পোশাক শিল্প আমাদের সহায়তায় স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়েছে। আমরা চাই, আমাদের মতো আরও অনেক প্রতিষ্ঠান তাদের ইন্টিগ্রেটেড সেবাসমূহ নিয়ে আসুক। আরও বেশি প্রতিষ্ঠান হলে গ্রাহকদের মধ্যে সচেতনতা বাড়বে। ফলে, ইন্ডাস্ট্রি লাভবান হবে। বর্তমানে, আমাদের দেশের ৮০% প্রিন্ট দেশের বাইর থেকে করে আনতে হয়। আমি চাই আগামী পাঁচ বছর পরে শতভাগ প্রিন্ট আমাদের দেশেই হোক।

প্রযুক্তিকথন: বাংলাদেশে কার্যক্রম শুরুর সময় আপনি কী ধরনের সমস্যার মুখোমুখী হয়েছেন?
আশিকুর রহমান:  সত্যিকার অর্থে কাজ শুরু করতে গিয়ে যেটা মনে হয়েছে সেটাকে আসলে আমি সমস্যা বলতে চাই না, বরং আমি সেটাকে সুযোগই বলবো, সেটা হচ্ছে গ্রাহকদের মানসিকতা। আমরা যখন গ্রাহকদের সাথে কথা বলতে যাই তখন সবাই বলে যে, আমাদের এই সেবাগুলো দরকার, কিন্তু এগুলো তো সম্ভব নয়। এই মানসিকতাকেই আমার সমস্যা মনে হয়েছে। তারা মনে করেন, এতো উচ্চ প্রযুক্তিসম্পন্ন মেশিন আমাদের নাই, জনবল নাই ইত্যাদি ইত্যাদি। তখন এই মানসিকতাকে আমার একই সাথে সমস্যা এবং সুযোগ মনে হয়েছে। আমরা এখানে যে প্রিন্টিং স্টুডিও করেছি এ ধরনের প্রিন্টিং স্টুডিও দেশে আর কোথাও নেই। বিদেশী ক্রেতারা যখন এসে এই স্টুডিও দেখে তখন বুঝতে পারে যে, বাংলাদেশেও ডিজিটাল প্রিন্টের কাজ করা সম্ভব। তারা দেখেই কারখানাগুলোকে অর্ডার দেয় এবং এই চাহিদা বাড়ছেই।

প্রযুক্তিকথন: অন্য প্রতিযোগিদের থেকে ডিসিসি-এর আলাদা বৈশিষ্ট কী? আপনাদের সেরা মান কোনটি?
আশিকুর রহমান: আসলে আমি প্রতিযোগি বলবো না। আমাদের মতো এমন ইন্টিগ্রেটেড সেবা নিয়ে ইন্ডাস্ট্রিকে সহায়তা করতে এখন পর্যন্ত কেউ আসেনি। আমাদের সেরা মান বা অনন্য বৈশিষ্ট হচ্ছে বিনামূল্যে নমুনা তৈরি করা এবং প্রশিক্ষণ প্রদান করা।

প্রযুক্তিকথন: অাপনাকে অনেক ধন্যবাদ অামাদের সময় দেয়ার জন্য।

আশিকুর রহমান: প্রযুক্তিকথন এবং অাপনাকেও অনেক ধন্যবাদ।

প্রযুক্তিকথন/অঞ্জন/

Related posts

8 thoughts on “‘প্রিন্টিং মার্কেটকে ডিজিটাল যুগের জন্য ঢেলে সাজাবার কাজ করছি’

  1. Razu Ahmed

    good job…..

  2. We appreciate your efforts…

  3. Best Writing Service

    Get an expert academic writing assistance. We can write any paper on any subject within the tightest deadline.

  4. I must say you have very interesting articles here.
    Your page can go viral. You need initial traffic only. How to get it?
    Search for; Etorofer’s strategies

  5. If үou wаnt to improve yoᥙr knowledge ߋnly kеep visiting tҺіs web site
    and bᥱ updated ԝith the lаtest information posted here. http://www.tianxiazuqiuba.com/

  6. We still can’t quite assume that I could end up being one of those studying the important suggestions found
    on your web blog. My family and I are sincerely thankful
    for your generosity and for giving me the chance to pursue this chosen profession path.

    Thanks for the important information I managed to get from
    your web-site.

  7. Fantastic site you have here but I was wanting to know if you knew
    of any community forums that cover the same topics talked about here?
    I’d really like to be a part of community where I can get
    opinions from other experienced individuals that
    share the same interest. If you have any recommendations, please let me know.
    Cheers!

  8. I must say you have high quality content here. Your posts can go viral.
    You need initial traffic only. How to get massive traffic?
    Search for: Murgrabia’s tools go viral

Leave a Comment