ভ্যাট আদায়ে কম্পিউটার ব্যবসায়ীদের প্রতি চাপ প্রয়োগ করা হবে না

কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কর্মকর্তারা ব্যবসায়ীদের বন্ধু। দেশ এবং ব্যবসায়ীদের স্বার্থ রক্ষা করতে কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেট ভূমিকা রাখে। কম্পিউটার ব্যবসায়ীদের জন্য আমাদের সহযোগিতার হাত সবসময় উন্মুক্ত। খুচরা কম্পিউটার ব্যবসায়ীদের ভ্যাট প্রদানে সব ধরণের সহযোগিতা প্রদান করা হবে।

বুধবার সন্ধ্যায় বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতি (বিসিএস) ইনোভেশন সেন্টারে কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের (ঢাকা দক্ষিণ) সাথে বিসিএস সদস্যদের মতবিনিময় সভায় কমিশনার কাজী মোস্তাফিজুর রহমান উপরোক্ত বক্তব্যগুলো তুলে ধরেন।

তিনি আরো বলেন, ভ্যাটের ব্যাপারে যেকোন ধরণের সেবা দিতে আমরা প্রস্তুত। বর্তমানে আমাদের লোকবলের অভাব রয়েছে, কিন্তু চলতি বছরে সরকার এই খাতে আরো ১ হাজার লোক নিয়োগদান করবে। এতে করে আমাদের সেবার মান উন্নত হবে। জুলাই মাস থেকে অনলাইন সেবা চালু হবে। রিটার্ন ফর্ম নিয়ে সাধারণ ব্যবসায়ীদের মধ্যে আতঙ্ক কাজ করে, কিন্তু এই ফর্ম পূরণ করা ফেসবুকে অ্যাকাউন্ট খোলার মতোই সহজ কাজ।

বিসিএস সভাপতি আলী আশফাক বলেন, কম্পিউটার খাতে তিনটি স্তরকেই ভ্যাটমুক্ত করা উচিত। আমদানি এবং উৎপাদন পর্যায়ে কম্পিউটার শুল্কমুক্ত। কম্পিউটার ব্যবসায়ীরা ভ্যাট দিতে আগ্রহী। কিভাবে ব্যবসাবান্ধব ভ্যাট নির্ধারণ ও প্রদান নীতি প্রণয়ন করা যায়, তা নিয়ে চিন্তা করতে হবে। ভ্যাটের ব্যাপারে ব্যবসায়ীদের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি করার জন্য ভ্যাট কমিশনকে আন্তরিকতার সাথে প্রশিক্ষনের ব্যবস্থা করতে হবে।

বিসিএস মহাসচিব ইঞ্জিনিয়ার সুব্রত সরকার বলেন, কম্পিউটার পণ্যে খুচরা পর্যায়ে ভ্যাট দিতে হলে গ্রাহকদের উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। একজন শিক্ষার্থীর জন্য ল্যাপটপের মূল্য সামান্য বাড়ানো হলেই তার কিনতে কষ্ট হয়। প্রযুক্তিপণ্য গ্রাহকদের মধ্যে সহজলভ্য করার জন্য এই খাতকে ভ্যাটমুক্ত রাখা উচিত।

বিসিএস এর প্রাক্তন সভাপতি ও বর্তমান বেসিস সভাপতি মোস্তাফা জব্বার বলেন, আমরা যেহেতু আমদানি পর্যায়ে ভ্যাট দিচ্ছি, সেহেতু আমদানি ভ্যাট ফেরত দিলে খুচরা পর্যায়ে ভ্যাট দেয়া সম্ভব। সমস্যা হল, ভ্যাট আদায়ে যুক্তিসংগত কারণ নিয়ে বিচার করা হয় না। এতে ব্যবসায়ী এবং ভ্যাট কর্মকর্তাদের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝির সুযোগ রয়ে যায়।

বিসিএস উপদেষ্টা ফয়েজুল্যাহ খান বলেন, আমাদের আগে সিদ্ধান্তে পৌঁছতে হবে আইসিটি পণ্যে আমরা ভ্যাট দিব কি না! সরকার যেহেতু আইসিটি খাতকে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে, সেহেতু সরকারের ‘রূপকল্প ২০২১’ বাস্তবায়ন এবং ২০৪১ সালের মধ্যে দেশকে উন্নত রাষ্ট্রে পরিণত করার লক্ষে এই খাতকে ভ্যাটমুক্ত রাখা উচিত। আমরা যেহেতু পণ্য আমদানি করার সময় ৪ শতাংশ অ্যাডভান্স ট্রেড ভ্যাট প্রদান করছি, সেহেতু খুচরা পর্যায়ে ভ্যাট দেয়াটা কম্পিউটার ব্যবসায়ীদের জন্য অনেকটা অযৌক্তিক এবং কষ্টকরও বটে।

মতবিনিময় সভায় বিসিএস পরিচালক মো. শাহিদ-উল-মুনির, এ.টি. শফিক উদ্দিন আহমেদ ও প্রতিষ্ঠাতা সদস্য শাফকাত হায়দারসহ অন্যান্য বিসিএস সদস্যবৃন্দ এবং কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের (ঢাকা দক্ষিণ) যুগ্ম কমিশনার মো. বশির আহমেদ, সহকারি কমিশনার আবদুল্লাহ আল মামুন ও তানভীর আহমেদ উপস্থিত ছিলেন।

প্রযুক্তিকথন/ডেস্ক

Related posts

Leave a Comment