‘দেশে বিশ্বমানের প্রোগ্রামার তৈরির সংস্কৃতি আরো বিকশিত হবে’

‘২০১৫ ও ২০১৬ সালের সাফল্যের ধারাবাহিকতায় দেশের হাইস্কুল ও কলেজের শিক্ষার্থীদের জন্য টানা তৃতীয়বারের মতো আয়োজন করতে যাচ্ছি ‘ন্যাশনাল হাই স্কুল প্রোগ্রামিং কনটেস্ট’। আমরা যদি আগামী দিনগুলোতে এই কার্যক্রমকে আরো বড় আকারে সারাদেশে ছড়িয়ে দিতে পারি তাহলে, আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে আমাদের দেশে বিশ্বমানের প্রোগ্রামার তৈরির সংস্কৃতি আরো বিকশিত হবে। শুধু তাই নয়, বড় বড় আইসিটি ইন্ডাস্ট্রিতেও বাংলাদেশের পদচারণা আরও বাড়বে।

রবিবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ের বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিল (বিসিসি) কনফারেন্স রুমে প্রতিযোগিতাটি নিয়ে সাংবাদিকদের বিস্তারিত জানাতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক।

আগামীতে সারাবিশ্বে ৪০ লাখের বেশি কম্পিউটার প্রোগ্রামার প্রয়োজন হবে। পশ্চিমা দেশগুলোতে যে প্রোগ্রামারের চাহিদা বাড়ছে তার যোগানদাতা দেশ হিসেবে বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা পাবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন প্রতিমন্ত্রী।

পলক বলেন, ‘আমাদের দেশেও বিশ্বমানের মেধাবীরা আছে। তাদের শুধু ভালোভাবে দিক নির্দেশনা দেয়া দরকার। জাতীয় হাই স্কুল প্রোগ্রামিং প্রতিযোগিতা সেরকম একটি প্লাটফর্ম, যেখান থেকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতের পরবর্তী যোগ্য নেতৃত্ব তৈরি হবে।’ এরকম বড় একটি জাতীয় উৎসবে আইসিটি ডিভিশনের সাথে থাকার জন্য বাংলাদেশ ওপেন সোর্স নেটওয়ার্ক (বিডিওএসএন) ও কোড মার্শালকে ধন্যবাদ জানান তিনি।

আয়োজন বিষয়ে পলক বলেন, ‘এ বছর হাইস্কুলে প্রোগ্রামিংয়ের পাশাপাশি থাকছে মেয়েদের জন্য ন্যাশনাল গার্লস প্রোগ্রামিং কনটেস্ট এবং শিশুদের জন্য জাতীয় শিশু কোডিং উৎসব।’

এসব আয়োজনের উদ্দেশ্য সম্পর্কে পলক বলেন, ‘স্কুল শিক্ষার্থীদের মাঝে ছোটবেলা থেকেই তথ্যপ্রযুক্তি জ্ঞান বিশেষ করে কম্পিউটার প্রোগ্রামিংয়ের বিভিন্ন বিষয়, প্রয়োগ ও দক্ষতা বৃদ্ধি সম্পর্কে সচেতন করে তোলা, শিক্ষার্থীদের হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ প্রদান এবং আগামী দিনে আমাদের শিক্ষার্থীগণ যাতে বিশ্বমানের প্রোগ্রামার হতে পারে, সে জন্য শক্ত ভিত্তি তৈরি করা।’

গত দুই বছরের প্রতিযোগিতার অভিজ্ঞতা সহভাগিতায় প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘২০১৫ সালে আমরা ৮টি এবং ২০১৬ সালে ১৬টি আঞ্চলিক পর্যায়ের কনটেস্টের পর জাতীয় পর্যায়ে প্রতিযোগিতার আয়োজন করেছি। আমরা উপলব্ধি করেছি, আমাদের শিক্ষার্থীদের প্রোগ্রামিং শেখার আগ্রহ শহরের গণ্ডি ছাড়িয়ে গ্রাম পর্যন্ত পৌঁছে গিয়েছে। তার স্পষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায় ঝিনাইদহ জেলার মহেশপুর উপজেলার জলিলগঞ্জ গ্রামের রোকাইয়া আখতার রাখীর মতো অনেক অদম্য মেধাবীদের মাধ্যমে। রাখীর কোন ল্যাপটপ ছিল না বলে সে তার মায়ের মোবাইল ফোনে প্রোগ্রামিং শিখেছে এবং যশোরের আয়োজনে সে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল। এরপর তার হাতে আমি একটা ল্যাপটপ তুলে দিয়ে ডিজিটাল বাংলাদেশের এক অগ্রণী সৈনিককে এগিয়ে যাবার অনুপ্রেরণা পেয়েছিলাম।’

এবারের আয়োজনে বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘মাসব্যাপী এই আয়োজনে থাকছে প্রচারণামূলক অ্যাক্টিভেশন, মেন্টরস ট্রেনিং, অনলাইন মেন্টরশীপ ও ফোরাম, ১৬টি আঞ্চলিক প্রোগ্রামিং ও কুইজ প্রতিযোগিতা, ৩টি উপজেলা পর্যায়ে প্রোগ্রামিং ও কুইজ প্রতিযোগিতা, ৪টি অনলাইন প্র্যাকটিস কনটেস্ট, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ কর্তৃক সারাদেশে স্থাপিত ২০০১টি শেখ রাসেল ডিজিটাল ল্যাবে অনলাইন কনটেস্ট, জাতীয় প্রোগ্রামিং ও কুইজ প্রতিযোগিতা, জাতীয় প্রোগামিং ক্যাম্প,বাংলাদেশ ইনফরমেটিক্স অলিম্পিয়াড, আন্তর্জাতিক ইনফরমেটিক্স অলিম্পিয়াড (আইওআই) ক্যাম্প।’

আইওআই ক্যাম্প থেকে নির্বাচিত ৪(চার) জন এ বছর ইরানের রাজধানী তেহরানে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া আন্তর্জাতিক ইনফরমেটিক্স অলিম্পিয়াডে অংশগ্রহণ করার সুযোগ পাবে বলে জানান তিনি।

আগামী বৃহস্পতিবার যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে যশোর অঞ্চলের প্রতিযোগিতার মাধ্যমে এই আয়োজনের পর্দা ওঠবে এবং আগামী এপ্রিলের মাঝামাঝি সময়ে ঢাকার কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশনে জাতীয় প্রোগ্রামিং প্রতিযোগিতার মাধ্যমে ন্যাশনাল হাই স্কুল প্রোগ্রামিং প্রতিযোগিতা ২০১৭ এর পর্দা নামবে বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়,বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়, পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ আর্মি ইন্টারন্যাশনাল ইউনির্ভাসিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি (কুমিল্লা সেনানিবাস), নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হবে।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত আছেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের নব-নিযুক্ত সচিব সুবির কিশোর চৌধুরী, বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিলের নির্বাহী পরিচালক স্বপন কুমার সরকার, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বনমালী ভৌমিক, বাংলাদেশ ওপেন সোর্স নেটওয়ার্কের সাধারণ সম্পাদক মুনির হাসান, আন্তর্জাতিক প্রোগ্রামিং প্রতিযোগিতার বিচারক মোহাম্মদ মাহমুদুর রহমানসহ তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ, বিডিওএসএনের ঊর্ধতন কর্মকর্তাবৃন্দ এবং তথ্যপ্রযুক্তি খাত সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়িক নেতৃবৃন্দ।

প্রযুক্তিকথন/তুষার/

Related posts

Leave a Comment