‘বিডিইএমআর’ ‍অ্যাপে চিকিৎসা সংক্রান্ত তথ্য নিমিষেই!

ঘরে বসে চিকিৎসকের অ্যাপয়েনমেন্ট ও প্রেসক্রিপশন, সব ধরনের স্বাস্থ্য পরীক্ষার রিপোর্ট, চিকিৎসকের পরামর্শ পাওয়ার যুগান্তকারী সুবিধা নিয়ে উন্মুক্ত হলো স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা বিষয়ক অ্যাপ ‘বিডিইএমআর’।

তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু বুধবার রাজধানীর ঢাকা ক্লাবে এক অনুষ্ঠানে আনুষ্ঠানিকভাবে রোগী, চিকিৎসক, স্বাস্থ্যখাতের সব পেশার মানুষের ব্যবহারের জন্য তিনটি অ্যাপ ও ওয়েব সার্ভিসের উদ্বোধন করেন। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএসএমএমইউ-এর উপাচার্য অধ্যাপক মো. কামরুল আহসান খান ও বাংলাদেশ মেডিকেল এসোসিয়েশনের মহাসচিব ডা. এহতেশামুল হক।

বাংলাদেশী চিকিৎসক বর্তমানে কানাডাপ্রবাসী ডা. অসিত বর্দ্ধন রোগী ও চিকিৎসকদের স্বস্তি দিতে তৈরি করেছেন ‘বাংলাদেশ ইলেক্ট্রোনিক মেডিকেল রেকর্ড’ সংক্ষেপে বিডিইএমআর অ্যাপসটি।

অনুষ্ঠানে অ্যাপসটির নির্মাতা ডা. অসিত বর্দ্ধন জানান, ইএমআর ধারণাটি পাশ্চাত্যে চিকিৎসা সেবার একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ হলেও বাংলাদেশে তা একদমই নতুন। এটি বাংলাদেশে প্রচলন করা গেলে দেশের চিকিৎসা সেবায় আমূল পরিবর্তন আসবে। এর মাধ্যমে চিকিৎসকের জন্য যেমন চিকিৎসা প্রদান সহজ হবে তেমনি রোগীর জন্যও চিকিৎসকের সেবা গ্রহণ, রোগ নির্ণয়-চিকিৎসা সংক্রান্ত ভোগান্তি ও ব্যয় কমিয়ে আনবে।

অসিত বর্দ্ধন বলেন, পাশ্চাত্য দেশগুলোতে এ ধরনের অ্যাপস এবং ব্যবস্থা বেশ ব্যয়বহুল। হাসপাতাল, প্রতিষ্ঠান, রোগী এবং চিকিৎসককে এ ধরণের ‍অ্যাপ কিনতে হয়। তবে বাংলাদেশীদের জন্য বিডিইএমআর অ্যাপসটি সম্পূর্ণ বিনামূল্যে ডাউনলোড করার সুযোগ রাখা হয়েছে।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, রোগীর জন্য পেসেন্ট.বিডিইএমআর অ্যাপ, ডক্টর.বিডিইএমআর অ্যাপসটি চিকিৎসকের ব্যবহারের জন্য আর ক্লিনিক.বিডিইএমআর অ্যাপসটি হাসপাতাল বা ক্লিনিকের জন্য।

বিডিইএমআর অ্যাপসে রোগীর চিকিৎসা সংক্রান্ত সকল ব্যক্তিগত তথ্য যেমন রোগীর নাম, ঠিকানা, যোগাযোগের নম্বর, রোগীর শারীরিক তথ্যউচ্চতা, ওজন, রক্তচাপ, নাড়ীর গতি, রোগের বিস্তারিত ইতিহাসরোগী ইতিপূর্বে যতবার চিকিৎসকের কাছে গেছেন যে যে শারীরিক অসুবিধা নিয়ে গেছেন তার খুঁটিনাটি বিস্তারিত বর্ণনা, রোগীর সকল পূর্বের ইনভেস্টিগেশন টেস্টের রেজাল্ট, রোগীর সকল প্রেসক্রিপশন ও ওষুধের নাম, ডোজ, সেবন বিধি, টিকা গ্রহণ ইত্যাদি থাকবে। অ্যাপসটিতে রোগীর প্রয়োজনীয় ফটো বা ভিডিও সংযুক্ত করারও সুবিধা রয়েছে।

বিডিইএমআর অ্যাপসে এসব সুবিধার পাশাপাশি রক্তচাপ, ব্লাড সুগারের ফলসহ যেকোনো পরীক্ষার ফল স্মার্টফোনের মাধ্যমে সেভ করে রাখা যায়। এমনকি একজন রোগী যেসব ওষুধ খাচ্ছেন সেটাও যোগ করে রাখা সম্ভব। ওষুধ কয়টা খাওয়া হলো, কয়টা বাকি থাকলো সেটাও জানা সম্ভব। কোনো ডোজ বাদ পরলো কিনা বার্তার মাধ্যমে তাও জানা যায়।

যারা মাঝে-মধ্যে ওষুধ খেতে ভুলে যান তাদের জন্য এটা খুবই উপযোগী। আবার বিভিন্ন প্যাথলজি থেকে যে রিপোর্ট করা হবে সেটাও এ অ্যাপসের মাধ্যমে ফোনে, ট্যাবলেটে বা কম্পিউটারে দেখা যায়। চিকিৎসক নিজের চেম্বারে বসেই সেটা দেখতে পান।

এভাবে এ অ্যাপসের মাধ্যমে চিকিৎসক ও রোগীর মধ্যে যোগাযোগ হবে সহজ, খরচ কমে আসবে এবং সময় বাঁচবে।

অ্যাপসটি এরইমধ্যে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে মেডিকেল কনফারেন্সে প্রদর্শিত ও প্রশংসিত হয়েছে।

প্রযুক্তিকথন/ডেস্ক/

Related posts

Leave a Comment