মোবাইল ব্যাংকিং এ প্রাথমিক উপবৃত্তি বিতরণ

দেশের ৮০ হাজার গ্রামের ১ কোটি ৩০ লক্ষ শিক্ষার্থীকে ডিজিটাল পদ্ধতিতে প্রাথমিক শিক্ষা উপবৃত্তির টাকা প্রদান কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করলেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ১ মার্চ ২০১৭ বুধবার সকাল ১১টায় গণভবনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী রূপালী ব্যাংক শিওরক্যাশের মাধ্যমে সুবিধাভোগী ছাত্র-ছাত্রীদের ১ কোটি মায়ের একাউন্টে উপবৃত্তির টাকা প্রদানের এ কার্যক্রম শুরু করেন। এসময়ে  ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে গোপালগঞ্জের টুঙ্গীপাড়া, রংপুরের পীরগঞ্জ ও দিনাজপুরের পার্বতীপুর উপজেলার সুবিধাভোগী মায়েদের নিকট মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে উপবৃত্তির অর্থ বিতরণ করা হয়।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, রূপালী ব্যাংক শিওরক্যাশ মোবাইল ব্যাংকিং-এর মাধ্যমে প্রাথমিক শিক্ষা উপবৃত্তি বিতরণ কার্যক্রম চালুর মধ্য দিয়ে ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণে আমরা আরো এক ধাপ এগিয়ে গেলাম।

প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, মোবাইল ব্যাংকিং এ ডিজিটাল পদ্ধতি চালু করার কারণে উপবৃত্তি ব্যবস্থাপনা আরো সহজ, দক্ষ এবং স্বচ্ছ হবে।

উদ্বোধনকালে প্রধানমন্ত্রী তিনটি উপজেলার সুবিধাভোগী মায়েদের সাথে ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে কথা বলেন।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী এডভোকেট মোস্তাফিজুর রহমান, এমপি বলেন, আজ থেকে ১ কোটি মা ঘরে বসেই মোবাইল ফোনের মাধ্যমে পেয়ে যাবেন তাদের সন্তানদের উপবৃত্তির টাকা। এ এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত।

মন্ত্রী আরো বলেন, মোবাইল ফোনের মাধ্যমে টাকা প্রেরণের এই ডিজিটাল পদ্ধতির প্রধান সুবিধা হল যে এতে ত্রুটি, বিচ্যুতি বা অনিয়মের কোনো সুযোগ নেই। টাকা বিতরণে কোনো অস্বচ্ছতা নেই।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব মোহাম্মদ আসিফ-উজ-জামান বলেন, এ উদ্যোগের মাধ্যমে ১ কোটি মা, ১ কোটি বাবা এবং ১ কোটি ৩০ লক্ষ শিক্ষার্থীর একটি ডাটাবেজ পাওয়া যাবে। এই তথ্য বই ছাপানো, শিক্ষার মান পর্যালোচনাসহ বিভিন্ন কর্মকান্ডে ব্যবহার করা যাবে।

এ প্রসঙ্গে রূপালী ব্যাংক লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোঃ আতাউর রহমান প্রধান বলেন, রূপালী ব্যাংক দেশের প্রান্তিক জনগণের কাছে আর্থিক সেবা পৌঁছে দেয়া এবং ঘরে বসে সহজে লেনদেনের সুবিধার জন্য মোবাইল ব্যাংকিং সেবা চালু করেছে।

শিওরক্যাশের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ড. শাহাদাত খান বলেন, শিওরক্যাশ পেমেন্ট সিস্টেমে ব্যবহৃত সকল সফটওয়্যার ও প্রযুক্তি সম্পূর্ণভাবে বাংলাদেশে প্রস্তুত। এই দেশের তরুণ-তরুণীরা তৈরী করেছে বিশ্বমানের সফটওয়্যার।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, প্রাথমিক শিক্ষা উপবৃত্তি প্রকল্প বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের ভর্তি করানো, উপস্থিতি ধরে রাখা এবং শিক্ষার মান উন্নয়নের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। সারাদেশে প্রায় ৬০ হাজার প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ১ কোটি ৩০ লক্ষ শিক্ষার্থী এই প্রকল্পের আওতাভূক্ত। এই উপবৃত্তি সাধারণত ৩ মাস পর পর ছাত্র-ছাত্রীদের মায়েদের কাছে পৌঁছে দেয়া হয়। এ পদ্ধতিতে সরকার প্রতি বছর প্রায় ১৪০০ কোটি টাকা প্রাথমিক শিক্ষা উপবৃত্তি হিসেবে প্রদান করছে।

এ কার্যক্রমে ডাটাবেজের সাহায্যে প্রতিটি শিক্ষার্থীর হিসাব খোলা হয়েছে মায়েদের মোবাইল নম্বর দিয়ে। তাই মায়েদের মোবাইল নম্বরেই উপবৃত্তির টাকা পৌঁছে যাবে। প্রত্যেক শিক্ষার্থীর জন্য নির্ধারিত পুরো টাকাই পাবেন মায়েরা। পরবর্তীতে সুবিধামত সময়ে নিকটস্থ এজেন্টের কাছ থেকে টাকা তুলে নিতে পারবেন বা এই টাকা দিয়ে বিভিন্ন লেনদেন করতে পারবেন। টাকা তোলার সময়ও কোনো ধরনের চার্জ কাটা হবে না।

এই কার্যক্রমে সহায়তা করতে যে মায়েদের সিম নেই, তাদের বিনামূল্যে সিমকার্ড বিতরণ করছে টেলিটক। এসব সিমে প্রতি মাসে ২০ টাকা করে টকটাইম পাবেন মায়েরা।

উল্লেখ্য, রূপালী ব্যাংক শিওরক্যাশ একটি পূর্ণাঙ্গ মোবাইল ব্যাংকিং এবং পেমেন্ট সেবা। এই সেবার মাধ্যমে গ্রাহকরা সারা দেশে টাকা পাঠানো, রেমিটেন্সের টাকা উঠানো, মোবাইল রিচার্জ, বিল দেয়া এবং বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বেতন দেয়ার সুযোগ পাবে এবং এক লাখের অধিক এজেন্টের সহায়তায় টাকা জমা করতে বা তুলতে পারবে।

প্রযুক্তিকথন/ডেস্ক/