দেশপ্রেম বর্জিত গুণীজন সমাজের বোঝা : তথ্যমন্ত্রী

তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু বলেছেন, যে গুণীজন দেশপ্রেমের নজির স্থাপন করতে পারেন না, তিনি এক সময় সমাজের বোঝা হয়ে যান।

তিনি বলেন, গুণীজনদের সম্মান না জানালে গুণী মানুষ সৃষ্টি হয় না। বীরকে সম্মান না দিলে বীর তৈরি হয় না।

মঙ্গলবার (২ মে) জাতীয় গণগ্রন্থাগারের শওকত ওসমান মিলনায়তনে বিবার্তা২৪.নেট আয়োজিত গুণীজন সম্মাননা (বিবার্তা স্বর্ণপদক) অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধুর হত্যাকান্ডে পরই দেশে মূল সমস্যা তৈরি হয়। এরপর শুরু হয় ইতিহাস বিকৃতি। বঙ্গবন্ধু, এমনকি রবীন্ত্রনাথকেও নির্বাসনে পাঠানো শুরু হয়। সামরিক শক্তি জাতির সাথে বেইমানি করেছিল। তবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আবারও দৃঢ়তার সঙ্গে জাতিকে আলোর দিকে নিয়ে যাচ্ছেন। তিনি খন্ডিত ইতিহাস থেকে জাতিকে বের করে এনেছেন

বিবার্তার এই মহতি উদ্যোগকে অভিনন্দন জানিয়ে তথ্যমন্ত্রী বলেন, দায়িত্বের সূত্র ধরেই আমি বিবার্তাকে জানি, তার সৃজনশীলতা সম্পর্কে জানি। তাদের উদ্যোগকে স্বাগত জানাই।

মন্ত্রী বলেন, শেখ হাসিনার হাত ধরে দেশ আলোর পথে এগিয়ে যাচ্ছে। আপনারা অনেক সমস্যা দেখেছেন, জ্বালাও-পোড়াও দেখেছেন। তারপরও দেশ গণতন্ত্রের পথে এগিয়ে যাচ্ছে।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, বিবার্তার উদ্যোগ সৃষ্টিশীল। আমি মনে করি, নানা গুণীজন নানাভাবে দেশ ও সমাজের সেবা করছেন। দেশে সমস্যা তৈরি হলে জনগণ তাদের শরণাপন্ন হন। এ সময় গুণীজনরা তাদের গ-ির বাইরে এসে দেশের কল্যাণে এগিয়ে আসেন। তবে গুণীজনদেরকে সম্মান জানাতে না পারলে দেশ স্বাভাবিক নিয়মে পিছিয়ে পড়বে।

মন্ত্রী বলেন, দেশ আজ জঙ্গির বিরুদ্ধে যুদ্ধ করছে। তারা এখন দুর্বল হয়ে গেলেও আত্মসমর্পন করেনি। একাত্তরের পরের এই যুদ্ধে আমাদেরকে অবশ্যই জিততে হবে।

সংবর্ধনার জবাবে বিশিষ্ট সাংবাদিক দৈনিক জনকণ্ঠ’র উপদেষ্টা সম্পাদক তোয়াব খান বলেন, দেশের বর্তমানে তথ্যপ্রবাহ ও তথ্য প্রচারে অবাধ স্বাধীনতা বিরাজ করছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জ্ঞানভিত্তিক সমাজের ডাক দিয়েছেন। তবে এ স্বাধীনতাকে ধরে রাখতে হবে।

তিনি বিবার্তাকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, দেশে সাংবাদিকতা বিকাশের জন্য সরকারি পর্যায়ের বাইরেও কিছু প্রতিষ্ঠান এগিয়ে এসেছে। বিশেষ করে এ পেশার মানুষরাই এগিয়ে আসছে, এটা খুবই ভালো বিষয়।

সম্বধর্ণা অনুষ্ঠানে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক দিপু মনি, তথ্য ও প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক এবং বিবার্তা সম্পাদক বাণী ইয়াসমিন হাসিসহ পদকপ্রাপ্ত ব্যক্তিবর্গ বক্তব্য রাখেন।

প্রতি বছরের মতো এবারও ১০টি ক্ষেত্রে ১১ গুণীজনকে সম্মাননা দিয়েছে দেশের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় নিউজপোর্টাল বিবার্তা২৪ডটনেট।

সম্মাননা পেলেন যারা

এবার বিবার্তা গুণীজন সম্মাননা পেয়েছেন তোয়াব খান (সাংবাদিকতা), সৈয়দ হাসান ইমাম ও লায়লা হাসান (শিল্প সংস্কৃতি), ডা. দীপুমনি (রাজনীতি), মাহবুব আরা গিনি (অদম্য নারী), জুনাইদ আহমেদ পলক (আইসিটি), এম এ গনি (প্রবাসে মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক), মো. ইফতিখার-উজ-জামান (অর্থনীতি), মো. আব্দুর রাজ্জাক (সফল উদ্যোক্তা), মাবিয়া আক্তার সীমান্ত (ক্রীড়া) এবং সানিয়া বিনতে মাহতাব (গবেষণা)।

প্রযুক্তিকথন/ডেস্ক/