সদস্যদের জন্য বেসিসের মেম্বারশীপ স্মার্ট কার্ড চালু

বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেস (বেসিস) দেশের তথ্যপ্রযুক্তি খাতের শীর্ষ বাণিজ্যিক সংগঠন। ১৯৯৭ সালে যাত্রা শুরু করা সংগঠনটির বর্তমানে সদস্য সংখ্যা এক হাজারের অধিক। এই বিশাল সংখ্যক সদস্যরা দেশের তথ্যপ্রযুক্তি খাতকে একদিকে যেমন অনেক এগিয়ে নিয়েছে, তেমনিভাবে বর্তমানে সরকারের রুপকল্প ২০২১ বাস্তবায়নে অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে। একইসাথে তারা সফটওয়্যার ও তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর সেবা রফতানি করে প্রচুর পরিমাণে বৈদেশিক মুদ্রা আয় করছে, যা দেশের জিডিপিতে বিশেষ ভূমিকা রাখছে।

বেসিস তার যাত্রালগ্ন থেকেই সদস্যদের কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় সদস্যরা যাতে দৈনন্দিন প্রয়োজন, চিকিৎসা সেবা, বেড়ানোসহ বহুবিধ কাজে সর্বোচ্চ সহযোগিতা পায় তার জন্য ‘বেসিস মেম্বারশীপ স্মার্ট কার্ড’ নামে বিশেষ একটি কার্ড চালু করতে যাচ্ছে। এই কার্ডের মাধ্যমে হাসপাতাল, হোটেল, বিমানবন্দর, রেস্টুরেন্সসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে বিশেষ ছাড় ও অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বেসিস সদস্যরা সেবা পাবেন।

বুধবার (২৪ মে ২০১৭) রাজধানীর লেকশোর হোটেলে একটি অনাড়ম্বর অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে বেসিসের নতুন এই স্মার্ট কার্ড উদ্বোধন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে কার্ডের উদ্বোধন করেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহ্মেদ পলক, এমপি। বেসিস সভাপতি মোস্তাফা জব্বারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান ইমরান আহমেদ এমপি। শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন বেসিসের পরিচালক মোস্তাফিজুর রহমান সোহেল। স্মার্ট কার্ড সম্পর্কে বলেন বেসিসের সদস্য কল্যাণ সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান দেলোয়ার হোসেন ফারুক।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বেসিসের জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি রাসেল টি আহমেদ, সহ-সভাপতি এম রাশিদুল হাসান, পরিচালক উত্তম কুমার পাল, সোনিয়া বশির কবির, রিয়াদ এস এ হোসেনসহ অংশীদারি প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতিনিধিরা।

আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহ্মেদ পলক বলেন, একসময় বাংলাদেশে আইসিটি বলে কেনো খাত ছিলো না। কৃষিভিত্তিক অর্থনীতিতে দাঁড়িয়ে ছিলাম আমরা। কিন্তু বর্তমান সরকার ২০৪১ সালের মধ্যে তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর উন্নত বাংলাদেশ গড়ার ঘোষনা দিয়েছে। আমাদের সরকার ব্যবসা করবে না, ব্যবসা করার পরিবেশ তৈরি করে দেবে। যার মাধ্যমে ব্যবসায়ীকে দেশের অর্থনীতির চাকাকে গতিশীল রাখবে। তিনি প্রত্যাশা করেন, বেসিস একসময় বিজেএমইএ এর মতো শক্তিশালী সংগঠন হবে।

ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান ইমরান আহমেদ বলেন, তথ্যপ্রযুক্তি খাত যেভাবে এগিয়ে গেছে তা বেসিসের সদস্যদেরই অবদান। সরকারের পক্ষ থেকে যথেষ্ট সহযোগিতা দেয়া হচ্ছে। আগামীতেও এর ধারাবাহিকতা থাকবে। আমরা প্রত্যাশা করি সরকারি-বেসরকারি যৌথ উদ্যোগের মাধ্যমে এই খাত অনেকাংশে এগিয়ে যাবে।

বেসিস সভাপতি মোস্তাফা জব্বার বলেন, বেসিস সদস্যদের জন্য এটি একটি বিশেষায়িত সেবা। দীর্ঘদিন ধরে সদস্যরা এ ধরণের কার্ড বা সেবার দাবি জানিয়ে আসছিলেন। দেরিতে হলেও কার্ডটি দিতে পারে আমরা আনন্দিত। আপাতভাবে ১৫টি প্রতিষ্ঠানের সাথে সমঝোতা হলেও আগামীতে আরও প্রতিষ্ঠান যুক্ত করা হবে।

অনুষ্ঠানে পৃষ্ঠপোষকতায় ছিলো শাহজালাল ইসলামী ব্যাংক লিমিটেড।

প্রযুক্তিকথন/ডেস্ক/

Related posts

Leave a Comment