সবুজ পরিবেশের জন্য মোবাইল হ্যান্ডসেট রিসাইক্লিং

বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে আজ রাজধানীর ফার্মগেটে গ্রামীণফোন সেন্টারে ‘মোবাইল হ্যান্ডসেট রিসাইক্লিং’ শীর্ষক  এক কর্মসূচীর উদ্বোধন করেছে গ্রামীণফোন।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এ প্রচারণার উদ্বোধন করেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো। রাইসুল আলম মন্ডল এবং বিটিআরসি এর মহাপরিচালক স্পেকট্রাম বিভাগ ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোঃ নাসিম পারভেজ অনুষ্ঠানের বিশেষ অতিথি ছিলেন।। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন গ্রামীণফোনের প্রধান নির্বাহী মাইকেল ফোলি এবং চিফ করপোরেট অ্যাফেয়ার্স অফিসার মাহমুদ হোসেন।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বলেন, “গ্রামীণফোনের হ্যান্ডসেট রিসাইক্লিং এর উদ্যোগ বাংলাদেশে পরিবেশ সংরক্ষণে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। আমি বিটিআরসিকে অনুরোধ করবো যে তারা যেন অন্যান্য স্টেকহোল্ডারদেরকেও এই উদ্যোগের সাথে যুক্ত করেন।”

এ প্রচারণাজুড়ে গ্রামীণফোন আগ্রহীদের আহ্বান জানাবে তাদের অব্যবহৃত বা বাতিল মোবাইল হ্যান্ডসেট নিকটস্থ গ্রামীণফোন সেন্টারে ড্রপবক্সে জমা দিতে। গ্রামীনফোন এসব অব্যবহৃত ও বাতিল হ্যান্ডসেট আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে রিসাইকেল করবে অর্থাৎ ডিভাইসগুলো ভেঙ্গে এর বিভিন্ন উপাদান পুনরায় ব্যবহার উপযোগী করবে। এক্ষেত্রে, এটা নিশ্চিত করা হবে যে ডিভাইসের মধ্যে পুনর্ব্যবহারের উপযোগী সকল উপকরণসহ সম্ভাব্য ক্ষতিকর সব উপাদান সঠিকভাবে প্রক্রিয়াজাত করা হবে। রিসাইক্লিং এর এ প্রক্রিয়া দেশ ও দেশের বাইরে আইএসও ১৪০০০, ওএসএইচএএস ১৮০০০ এবং আর২ স্ট্যান্ডার্ড মেনে করা হবে। সারাদেশে বছর জুড়ে দেশের সব গ্রামীণফোন সেন্টার ও গ্রামীণফোনের সার্কেল অফিসে হ্যান্ডসেটগুলো জমা নেয়া হবে।

এ নিয়ে গ্রামীণফোনের প্রধান নির্বাহী মাইকেল ফলি বলেন, ‘দায়িত্বশীল করপোরেট নাগরিক হিসেবে গ্রামীণফোন পরিবেশের ওপর এর পরিচালনার নেতিবাচক প্রভাব কমাতে নিরলস চেষ্টা করে যাচ্ছে। পাশাপাশি, প্রতিষ্ঠানটি এর সকল কর্মী, গ্রাহক এবং অংশীদাররা যাতে এক্ষেত্রে দায়িত্বশীলতার পরিচয় দেয় এজন্য তাদের অনুপ্রাণিত করে। গ্রামীণফোন বিশ্বাস করে যে পরিবেশের উপর বাতিল ফোনের নেতিবাচক প্রভাব হ্রাস করার ক্ষেত্রে রিসাইক্লিং একটি পরিবেশ বান্ধব নিরাপদ ও নৈতিক পদ্ধতি। পরিবেশগত দৃষ্টিকোণ থেকে অব্যবহৃত ও বাতিল ফোন মাটিতে মিশে যেতে না দিয়ে নিরাপদ, সুরক্ষিত ও নৈতিক উপায়ে রিসাইক্লিং করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”

মোবাইল হ্যান্ডসেটে পারদ, ক্যাডমিয়াম, সীসা, বেরিলিয়াম এবং অগ্নি প্রতিরোধক  সহ একাধিক ক্ষতিকর রাসায়নিক উপাদান রয়েছে। এসব হ্যান্ডসেট সঠিকভাবে ধ্বংস না করা হলে কিংবা মাটিতে মিশে গেলে মোবাইল হ্যান্ডসেট থেকে নির্গত ক্ষতিকর উপাদান মাটি ও খাবার পানি দূষিত করতে পারে। একটি মোবাইল ফোনে ব্যবহৃত ক্যাডমিয়ামই ছয় হাজার লিটার পানি দূষণের জন্য যথেষ্ট। মোবাইল ফোন নির্মাণে ব্যবহৃত অগ্নি প্রতিরোধক উপাদান, সীসা ও বেরিলিয়াম ক্যান্সার, যকৃত এবং স্নায়ুতন্ত্রের ক্ষতিসহ অনেক ঝুঁকিপূর্ণ রোগের কারণ হতে পারে। মোবাইল ফোনের ডিসপ্লে ও সার্কিট বোর্ডে ব্যবহৃত পারদ মস্তিষ্ক ও কিডনির ক্ষতি করতে পারে। এক চা চামচ পরিমাণ পারদ বিশ একরের একটি লেকের পানি আজীবনের জন্য দূষিত করে ফেলতে পারে।

গ্রামীণফোনের কাছে রিসাইক্লিং করার জন্য জমা দেয়া হ্যান্ডসেট কোনো অবস্থাতেই বিক্রি করা হবে না কিংবা পুনরায় ব্যবহার করা হবে না। হ্যান্ডসেটগুলো মাটি চাপা না দিয়ে বরং সঠিক উপায়ে ভেঙ্গে ফেলা হবে এবং প্রাপ্ত উপাদানগুলো  নতুন পণ্য তৈরিতে ব্যবহার করা হবে। এক্ষেত্রে, আরও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে, উপাদানগুলো পুনর্ব্যবহারোপযোগী করার মাধ্যমে গ্রামীণফোন বিশ্বের মূল্যবান প্রাকৃতিক সম্পদের চাহিদা কমাতে সহায়তা করার পাশাপাশি, জ্বালানি ব্যবহার হ্রাস এবং ভবিষ্যতের গ্রিনহাউজ গ্যাস নিঃসরণ কমিয়ে দেবে।

প্রযুক্তিকথন/ডেস্ক/

Related posts

Leave a Comment