১০টা আলি এক্সপ্রেস এলেও সমস্যা নেই: মীর সাবের

বর্তমান অর্থনীতিতে ই-কমার্স একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তা বলার অপেক্ষা রাখে না। নতুন উদ্যোক্তা তৈরি আর বেকার সমস্যা সমাধানে ই-কমার্স খাতের চলমান অগ্রগতি চোখে পড়ার মতো। শিক্ষিত,স্বল্প-শিক্ষিত এমনকি দেশের নামী-দামী কোম্পানিগুলো ঝুঁকছে ই-কমার্সের দিকে। ই-কমার্সের নানা সুবিধা, সমস্যা এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রযুক্তিকথন ডটকমের প্রতিবেদক অঞ্জন চন্দ্র দেবের সাথে কথা বললেন মীরবাজার এর কর্ণধার মীর সাবের হোসেন। নিচে তারই অংশ তুলে ধরা হলঃ

প্রযুক্তিকথন: ই-কমার্সে আগমন হল কি করে?

মীর সাবের: ২০১১-১২ সালের দিকে আমাদের দেশে ফেসবুক কমার্স বা এফ কমার্স বেশ জনপ্রিয়তা লাভ করে। তখনই আমি এর সাথে পরোক্ষভাবে কাজ করি। এরপর ২০১৫ সালে নিজেই এফ কমার্স এবং ই-কমার্স শুরু করি। ই-কমার্স ব্যাপারটা আমাকে বেশ আকর্ষণ করে। সেই আকর্ষণ থেকেই আজকের মীরবাজার।

প্রযুক্তিকথন: শুরুটা সব সময়ই কঠিন হয়। আপনার বেলায় ব্যাপারটা কেমন ছিল?

মীর সাবের: কথা শতভাগ সত্যি। শুরুটা কঠিনই হয়। আমার  পূর্ব অভিজ্ঞতা থাকার পরও আমাকে বেশ বেগ পেতে হয়েছিল। মাত্র একটা পিসি আর ধার করা কিছু পণ্য নিয়ে ব্যবসা শুরু করেছিলাম আমি।

প্রযুক্তিকথন: প্রথম অর্ডার এর ব্যাপারটা যদি বলেন?

মীর সাবের: এটা কোনদিনই ভোলার নয়। ২০১৫ সালের জুন মাসে  শুরু করেছিলাম, কিন্তু প্রথম অর্ডার পাই জানুয়ারি ২০১৬ তে এবং লাভ হয়েছিল মাত্র ৩৬ টাকা। সেদিন খুব খুশি ছিলাম। কারণ দিন রাত পরিশ্রম করেছি মীরবাজারের জন্য।

প্রযুক্তিকথন: মীরবাজার এর ৩য় বর্ষে পদার্পণ। এ যাত্রা কেমন ছিল?

মীর সাবের: আমি এখনো মাঝ সমুদ্রে, সুতরাং এটা বলা খুব কঠিন যাত্রা কেমন ছিল বা হবে? তবে সময়টা খুব কঠিন ছিল, এখনো আছে।

প্রযুক্তিকথন: মীরবাজার এর ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কী?

মীর সাবের: বর্তমানে আমরা ভারতীয় পণ্য নিয়ে কাজ করছি। তবে খুব শিগগির দেশীয় পণ্য নিয়ে কাজ করার পরিকল্পনা রয়েছে। পরিকল্পনা বললে ভুল হবে, ইতোমধ্যে আমরা কাজ শুরু করে দিয়েছি। দেশীয় পোশাক নিয়েই কাজ করতে চাই।

প্রযুক্তিকথন: আলীবাবা, এমাজন যদি বাংলাদেশে আসে, তবে ব্যাপারটাকে আপনি কিভাবে দেখবেন?

মীর সাবের: খুবই জটিল এবং বিতর্কিত প্রশ্ন। যদি এরকম জায়ান্ট ই-কমার্সগুলো বাংলাদেশে আসে তবে দুটি ব্যাপার ঘটতে পারে। ক্রেতারা এখন আলি এক্সপ্রেস থেকে শপিং করেন। এবং এই প্রবণতা বেড়ে চলছে। তারা অতিরিক্ত খরচ দিয়ে পণ্য আনান। যদি আলিএকপ্রেস বাংলাদেশে আসে, তখন এই খরচটা বেচে যাবে। অন্যদিকে আমাদের দেশী ব্যবসায়ীদের পণ্যের চাহিদা কমে যাবে। এটাই স্বাভাবিক। তবে যদি আমাদের ব্যবসায়ীরা নিজেদের মান অক্ষুণ্ন রেখে ব্যবসা করতে পারেন তবে বাংলাদেশে ১০টা আলিএক্সপ্রেস এলেও সমস্যা নেই। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে মান অবনতির কারণে মানুষ অতিরিক্ত খরচ দিয়ে সেদিকে ঝুঁকছে, ব্যাপারটা খুবই নেতিবাচক। আর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইতিবাচাক দিক হল, আলিএক্সপ্রেস, আলিবাবা এরা এলে সাধারণ মানুষ ই-কমার্সের প্রতি ঝুঁকবে। অনলাইন ব্যবসায়ের ব্যাপ্তি ঘটবে।

প্রযুক্তিকথন: ই-কমার্সে ডেলিভারি নিয়ে অনেক সমস্যা হয়, যা নিয়ে সবাই খুব চিন্তিত। এ বিষয়ে আপনার কি মতামত?

মীর সাবের: ই-কমার্সে কাস্টমাররা অর্ডার করেন দ্রুত এবং নিরবছিন্ন ডেলিভারি সেবা পাওয়ার জন্য, এবং ই-কমার্স মানেই দ্রুত ডেলিভারি। সেক্ষেত্রে এর কোন বিকল্প নেই। তবে সমস্যা আছে, থাকবে সমাধান করতে হবে। সব ই-কমার্স ব্যবসায়ীরা এগিয়ে আসলে অবশ্যই সমস্যা সমাধান করা সম্ভব।

প্রযুক্তিকথন: ই-কমার্স এর এখন উঠতি সময়, কিন্তু ই-কমার্স নিয়ে অভিযোগের শেষ নেই…

মীর সাবের: ক্রেতা চাইলেই অনেক কিছু করতে পারেন, কিন্তু বিক্রেতা পারেন না। ধরুন আমরা অর্ডার করার কথা ছিল ১০ তারিখে, সেটা গেল ১২ তারিখে ডেলিভারি সমস্যা কিংবা অন্য কোন জটিলতার কারণে, তখন কাস্টমার অভিযোগ করে বসেন। কিন্তু আমরা ক্যাশ অন ডেলিভারিতে পণ্য নিয়ে গেলে সেটা তারা অযৌক্তিক কারণে ফিরিয়ে দেন। এর উত্তর নেই, তারপরও কাস্টমারকেই প্রাধান্য দিতে হবে, কারণ উনারাই আমাদের মূল লক্ষ্য।

প্রযুক্তিকথন: ই-কমার্স নিয়ে আপনার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কি

মীর সাবের: যদি ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা বলেন, তাহলে আমার কোন প্ল্যানিং নেই। কারণ আমার বর্তমানই আমার ভবিষ্যৎ। আমি যদি আজকে ভালো পণ্য, ভালো সেবা দেই তবে ভবিষ্যৎ আজকেই দেখতে পারব। তবে ই-কমার্স ব্যবসায়ীদের প্রতি অনুরোধ মান সম্মত পণ্য নিয়ে কাজ করুন, সফলতা আসবেই।

প্রযুক্তিকথন: আপনাকে অনেক ধন্যবাদ প্রযুক্তিকথন ডটকমকে সময় দেয়ার জন্য।

মীর সাবের: আপনাকেও অনেক ধন্যবাদ।

Related posts

Leave a Comment