নীতিমালা ছাড়াই চলছে উবার

বাংলাদেশে ১ বছর পার করলো যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাপভিত্তিক রাইড শেয়ারিং অ্যাপ উবার। এই উপলক্ষে তাদের কার্যক্রম জানাতে রবিবার সকালে রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে উবার।আন্তর্জাতিতভাবে উবারের যাত্রা হয় ২০১০ সালে। ঢাকায় তাদের কার্যক্রম শুরু হয় ২০১৬ সালের ২২ নভেম্বর।

সংবাদ সম্মেলেন উপস্থিত ছিলেন, ভারত ও দক্ষিণ এশিয়া বিভাগের প্রেসিডেন্ট অমিত জৈন, ভারত ও দক্ষিণ এশিয়ার সেন্ট্রাল অপারেশনের হেড প্রদীপ পরমেশ্বর। আর উপস্থিত ছিলেন, উবারের ঢাকা ও কলকাতার জেনারেল ম্যানেজার অর্পিত মুন্ডা।

এই সময় অমিত জৈন জানান, উবার বাংলাদেশে নীতিমালা ছাড়াই চলছে। অনেক দেশেই নীতিমালা নেই, কিন্তু আমরা চায় নীতিমালা হোক। এজন্য সরকারকে সব ধরণের সহযোগিতা করতে চায়। তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান হিসেবে আমরা রেজিষ্টার্ড তাই আমাদের অবৈধ বলা যাবে না। কারণ সরকার আমাদের কাছ থেকে রাজস্ব পাচ্ছে। আমরাও সরকারকে ট্যাক্স দিচ্ছি।

তিনি অারও বলেন, ‘বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা উবারের কাছে একটি গুরুত্বপূর্ণ মার্কেট। কেননা, এই শহরে জনসংখ্যার আধিক্যের ফলে পাবলিক ট্রান্সপোর্টের ঘাটতি আছে। ঢাকায় ব্যক্তিগত গাড়ির সংখ্যাই বেশি। এই বিপুল সংখ্যক ব্যক্তিগত গাড়িগুলোকে রাইড শেয়ারিংয়ের আওতায় এনে পরিবহন সংকট অনেকটাই কমিয়েছে উবার।’

ভারত ও দক্ষিণ এশিয়ার সেন্ট্রাল অপারেশনের হেড প্রদীপ পরমেশ্বর তার বক্তব্যে বলেন, ঢাকায় প্রতিনিয়ত গাড়ির সংখ্যা বেড়ে চলছে। শহরের যাতায়াত ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনতে গিয়ে আমরা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখী হয়েছি। তারপরও আমরা সফলতার সঙ্গে ঢাকায় এক বছর পার করেছি। আমরা আশা করছি অ্যাপ ভিত্তিক পরিবর্তন ব্যবস্থায় যথাযথ নীতিমালা তৈরি হলে এই শহরের পরিবহন সংকট অনেকটাই কমবে।

প্রত্যক প্রতিষ্ঠানের সংবাদ সম্মেলন করার একটা উদ্দেশ্য থাকে সাংবাদিকদের সাথে তাদের প্রতিষ্ঠান নিয়ে বিস্তারিত তুলে ধরবে এবং সাংবাদিকরা তাদের সকল প্রশ্নের উত্তর পাবে। তবে উবার সংবাদ সম্মেলনে গিয়ে তেমনটা দেখা মিলেনি। উবারের কর্মকর্তারা তাদের মত করে ঢালা্ও ভাবে কথা বলে গেছে। কোন প্রশ্নের উত্তর মিলেনি। সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তর দিতে অপারগতা প্রকাশ করে উবার কর্মকর্তারা।

সংবাদ সম্মেলনের শেষ পর্যায়ের উবার সম্পর্কে সাংবাদিকরা বিভিন্ন বিষয়ে প্রশ্ন করলে সময় স্বল্পতার অজুহাত দেখিয়ে এড়িয়ে উবারের কর্তারা। উবার কর্তারা বলেন, ঢাকার জনসংযোগ প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ করতে। আর সাংবাদিকদের ভাষ্য মতে, জনসংযোগ প্রতিষ্ঠানের সাথে যদি কথায় বলবো তাহলে আজ আমাদের এখানে ডাকার মানে কি।

এই প্রথম উবার সংবাদ সম্মলনের আয়োজন করেন বাংলাদেশে। তাই অনেক প্রশ্ন জমা হয়েছে তাদের কাছে। সাংবাদিকরা্ও মুখিয়ে ছিলেন উত্তর জানার জন্য। উবারের রয়েছে অনেক সফলতা ্ও ব্যর্থতা। সংবাদ সম্মেলনে থেকে এই সব প্রশ্ন জানার কোন সুযোগই মিলেনি।

এদিকে গত বছর উবারের ৬ কোটি গ্রাহকদের তথ্য চুরি হয়েছিল। কিন্তু এতদিন তা গোপন রাখে প্রতিষ্ঠানটি। সম্প্রতি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে ঘটনাটি ফলাও করে প্রচার করা হয়। উবারের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে তথ্য চুরির এই ঘটনা ধামাচাপা দিয়ে রেখেছিল প্রতিষ্ঠানটি।

সম্প্রতি ব্লুমবার্গের এক প্রতিবেদনে এই ঘটনাটি উঠে আসে। উবারও ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছে। তবে কি এই বিষয়কে নিয়ে কথা না বলার কারণেই সাংবাদিকদের সাথে কথা বলা নিয়ে উবারের এত অপারগতা প্রকাশ।

উবারের কোনো নিজস্ব ট্যাক্সি নেই। তারা কেবলমাত্র উবার ড্রাইভার ও উবার যাত্রীদের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করিয়ে দেয়।

প্রযুক্তিকথন//ডেস্ক/