ইউটিউবারদের গতি এবার থামবে কি?

ভিডিও শেয়ারিং সাইট ইউটিউব বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে অন লাইনারদের কাছে আয়ের একটি মাধ্যম হিসেবে। বাংলাদেশের অনেক তরুনই ভিডিও নির্মান করে আয় করছেন ইউটিউব থেকে। যারা ইউটিউবার হিসেবেও পরিচিত পাচ্ছেন। তবে এই ইউটিউবারদের অধিকাংশই কোন ধরনের নিয়ম নীতিমালা মানছেন না। দ্রুত অর্থ  আয়ের পথ খুজতে গিয়ে মান সম্মত প্রোডাকশনের বদলে যেন তেন ভিডিও তুলেই আয় করার সুযোগ খোঁজেন। কেউ কেউ আবার অশ্লীল ভিডিও, ফেইক শিরোনাম , ছবি দিয়ে ভিডিও তুলে দেন। ফলে ইউটিউবারদের নিয়ে বির্তক দিন দিন বাড়ছেই।

যারা অর্থ আয়ের উদ্যেশ্যে ইউটিউবকে বেছে নিয়েছেন তাদের জন্য কঠোর হচ্ছে ইউটিউব নীতি মালা। অর্থ আয়ের জন্য ভিডিওতে বিজ্ঞাপন প্রদর্শনের বিষয়ে কঠোর হচ্ছে ইউটিউব। একই সঙ্গে জনপ্রিয় ভিডিওগুলোতে দর্শকদের সমালোচনা উন্মুক্ত করা হচ্ছে। অপ্রাসঙ্গিক ভিডিওতে বিজ্ঞাপন প্রদর্শিত হচ্ছে কিনা সে বিষয়ে বিজ্ঞাপনদাতাদের উদ্বেগ কমিয়ে আনার জন্যই এমন উদ্যোগ নিয়েছে জনপ্রিয় এই ভিডিও শেয়ারিং সাইট।

একই সঙ্গে ভিডিওতে বিজ্ঞাপন প্রদর্শনের ক্ষেত্রে নতুন নীতিমালা করেছেন ইউটিউব। নতুন নিয়মে ভিডিওতে বিজ্ঞাপন প্রদর্শনের জন্য চ্যানেলে ১ হাজার সাবস্ক্রাইবার থাকতে হবে। একই সঙ্গে ওই চ্যানেলের ভিডিওগুলো বিগত ১২ মাসে কমপক্ষে ৪ হাজার ঘণ্টা দেখা হয়েছে এমন হতে হবে। ঘোষণাটি কার্যকর করা হবে ফেব্রুয়ারির ২০ তারিখ থেকে সব পুরনো চ্যানেলের উপরে।

গতবছর ইউটিউব নতুন পলিসি করে, এড দিতে হলে চ্যানেলে ১০ হাজার ভিউ থাকতে হবে। একবছর না যেতেই নিয়মটি আরো কড়াকড়ি করে ফেলল।  ইউটিউবের নতুন সিন্ধান্তে ক্ষতিগ্রস্ত হবে কারা? প্রভাব পরবে নতুন ইউটিউব চ্যানেলের উপর, যারা একে পার্টটাইম ইনকামের জায়গা ভেবেছিলেন।

কেন এই নিয়ম:
ইউটিউব আসলে এমন একটা প্লাটফর্ম যেখানে উদ্যোক্তারা তাদের নিজেদের ট্যালেন্ট শো করবে। আর পার্টনার প্রোগ্রামের মাধ্যমে ইউটিউব তাদেরকে কিছু উপার্জনের ব্যবস্থা করে দেবে যাতে তাদের খরচটা উঠে আসে। কিন্তু গত কয়েক বছরে আমরা দেখতে পাচ্ছি, লাখ লাখ লোক শুধু মাত্র পয়সা উপার্জনের আশায় ইউটিউবে চলে আসে। ফলাফলে নিম্ন মানের চ্যানেল, আর নিম্ম নামের কন্টেন্ট’র ছড়াছড়ি। কিছু বড় বড় এডভারটাইজিং গ্রুপ ইউটিউব থেকে তাদের এড সরিয়ে নেয়। ইউটিউব তাদের ইকোসিস্টেম রক্ষায় এক রকম বাধ্য হয়েই সবাইকে এড এর সুযোগ দেয়া বন্ধ করে দেয়। নতুন নিয়মগুলো আবেদন এর সংখ্যা অনেকাংশে কমিয়ে আনবে। ফলে ইউটিউব আরো ভালভাবে পর্যবেক্ষন করে এড দিতে পারবে।

কারা এতে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন:
ইউটিউব তাদের ইকোসিস্টেম রক্ষা করতে অনেক সিরিয়াস। কেউ যদি ভেবে থাকেন যে ইউটিউবে পয়সা উড়ে, যা মন চায় তাই বা কারোটা কপি করে এনে আপলোড করলেই পয়সা, এরাই আসলে ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। শত শত লোকের শুধু মাত্র বাংলাদেশ থেকে পয়সার লোভে ইউটিউবে চলে আসাটাও এই নিয়ম তৈরির পিছনে কমবেশি ভূমিকা রেখেছে বলতে পারেন।

সিরিয়াস ইউটিউবারদের চিন্তার কিছু নেই:
যারা ইউটিউব কে সিরিয়াসলি ক্যারিয়ার হিসেবে নিতে চান তাদের জন্য আসলে ভালই হল। ইউটিউবে টিকে থাকা আসলে খুব সহজ নয়। কিছু যোগ্যতা অর্জন করেই এখানে টিকে থাকতে হবে। ভালো মানের ভিডিও তৈরি করলে ৪ হাজার ঘন্টা কোন ব্যাপার না। ভালো ভিডিও বানালে মানুষ বেশি সময় ধরে দেখে। তাই নতুন নিয়ম নিয়ে চিন্তার কিছুই নাই। সব সময় ভালো কনন্টেট দিলে ১ হাজার সাবস্ক্রাইবার তৈরি করা কোন বিষয় না। আপনার চ্যানেলে যদি ভালো কিছু মানুষ পায় সে সাবস্ক্রাইবার হবেই।