মোবাইল নাম্বার পোর্টবিলিটি সার্ভিস চালু সরকারের অন্যতম সাফল্য

মোবাইল ফোন গ্রাহকদের নাম্বার অপরিবর্তিত রেখে অপারেটর পরিবর্তনের গাইডলাইন অনুমোদন করেছে ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়।ডাক ও টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম এ প্রসঙ্গে বলেন, এমএনপিএস গাইডলাইন অনুমোদন দেয়া হয়েছে। দেশের সর্বত্র সেরা নেটওয়ার্কিংয়ের মাধ্যমে গ্রাহকরা যাতে সেবা পেতে পারে সেজন্যই এটি করা হয়েছে।

বিটিআরসির চেয়ারম্যান সুনীল কান্তি বোস বলেন, মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন পাওয়া গেছে। এখন আন্তর্জাতিক টেন্ডার আহ্বান করে একটি প্রতিষ্ঠানকে এ কাজের জন্য মনোনীত করা হবে। মনোনীত কোম্পানির মেয়াদকাল হবে ১০ থেকে ১৫ বছর।

মন্ত্রণালয় ও বিটিআরসির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, গাইডলাইন অনুযায়ী গ্রাহকদের নিজ নাম্বার অপরিবর্তিত রেখে অপারেটর পরিবর্তনের জন্য নির্দিষ্ট হারে চার্জ প্রদান করতে হবে। কর্মকর্তারা আরও জানান, এমএনপিএস বাস্তবায়নে গাইডলাইন অনুযায়ী বিটিআরসি আন্তর্জাতিক নিলামের মাধ্যমে একটি প্রতিষ্ঠানকে মনোনীত করবে। নিলামের বেইস প্রাইজ বা প্রারম্ভিক মূল্য ১ কোটি টাকা রাখা হবে। নিলামের মাধ্যমে যে প্রতিষ্ঠান মনোনীত হবে ওই প্রতিষ্ঠানকে নিলামের মূল্য ৩০ দিনের মধ্যে পে অর্ডার বা ব্যাংক ড্রাফটের মাধ্যমে পরিশোধ করতে হবে। এছাড়া মনোনীত প্রতিষ্ঠানের প্রথম বছরে মোট আয়ের ওপর বিটিআরসির কোনো অংশীদারিত্ব থাকবে না। তবে পরবর্তী বছর থেকে মোট আয়ের ৫ দশমিক ৫ শতাংশ হারে বিটিআরসিকে প্রদান করতে হবে। বার্ষিক লাইসেন্স ফি রাখা হয়েছে ২০ লাখ টাকা। এছাড়া লাইসেন্স ইস্যুর পরের ৩০ দিনের মধ্যে বিটিআরসির অনুকূলে ১ কোটি টাকা ব্যাংক গ্যারান্টি দিতে হবে। ২০১৩ সালের জুনে মোবাইল নাম্বার পোর্টবিলিটি সেবা চালু করতে বেসরকারি টেলিকম অপারেটরদের নিয়ে একটি কনর্সোটিয়াম করার উদ্যোগ নেয়া হয়। কিন্তু ওই সময় বিষয়টি নিয়ে কোনো অপারেটরই এগিয়ে আসেনি। পরে গ্রাহক সেবা নিশ্চিত করতে বিটিআরসি পৃথক একটি প্রতিষ্ঠানকে দিয়ে এ এমএনপিএস সেবা চালু করার সিদ্ধান্ত নেয়। ওই সিদ্ধান্ত অনুযায়ীই গাইডলাইন তৈরি করা হয়েছে।

এমএনপিএস সেবা হচ্ছে নাম্বার পরিবর্তন না করে অপারেটর পরিবর্তন করে সেবা গ্রহণ করা। কোনো গ্রাহক বর্তমানে একটি নির্দিষ্ট অপারেটরের নাম্বার ব্যবহার করছেন। কিন্তু কোনো কারণে ওই অপারেটরের নেটওয়ার্ক ওই গ্রাহকের পছন্দ হচ্ছে না। তখন এমএনপিএস সেবার মাধ্যমে নাম্বার ঠিক রেখে অপারেটর পরিবর্তনের সুযোগ পাবে গ্রাহকরা।

অপারেটর পরিবর্তনের পরে গ্রাহকের প্রতি কলের ওপর একটি সার্ভিস চার্জ নির্ধারণ করা হবে। এ সার্ভিস চার্জ পাবে এমএনপিএস সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান। বর্তমানে গ্রাহকদের অনেকেই নানা সুবিধা পেতে কিংবা কোনো অপারেটরের নিম্নমানের সেবার কারণে বিরক্ত হয়ে একাধিক মোবাইল সিম কার্ড ব্যবহার করেন। এতে নানারকম সমস্যার সৃষ্টি হয়। সেবাটি চালু হলে গ্রাহক ধরে রাখতে উন্নত সেবা নিশ্চিতে প্রতিযোগিতা শুরু হবে মোবাইল অপারেটরদের মধ্যে।

পাশাপাশি একই মোবাইল ফোনে একাধিক সিম কার্ড ব্যবহারের প্রবণতাও কমে যাবে বলে মনে করেন এ খাতের বিশেষজ্ঞরা।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা আরও জানান, এমএনপিএস সেবা চালু হওয়ায় মোবাইল অপারেটররা তাদের গ্রাহক সেবার মান সন্তোষজনক রাখতে সবসময় সচেষ্ট থাকবে। নইলে গ্রাহক হারাবে। অন্যদিকে গ্রাহকরা লাভবান হবেন। বর্তমানে এ ধরনের সেবা ভারত, পাকিস্তান, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, যুক্তরাষ্ট্র, ব্রাজিল, অস্ট্রেলিয়া, বেলজিয়াম, ডেনমার্ক, ফ্রান্স, গ্রিস, হংকং, ইতালিসহ অনেক দেশেই চালু রয়েছে।