সাইবার ক্রাইম ও বাংলাদেশ

ইন্টারনেটকে বলা হয় তথ্য প্রযুক্তির সূতিকাগার। এটা জ্ঞানের অবারিত হাজার দরজা খুলে দিচ্ছে আমাদের সামনে। এর মাধ্যমে মানব সভ্যতা যেমন পরম উপকৃত হচ্ছে, তেমনি এর বহুমুখী অপকারিতাও রয়েছে। ইন্টারনেটের মাধ্যমে যেসব অপরাধ সংঘঠিত হয় তাকেই সাইবার ক্রাইম বা প্রযুক্তি সংক্রান্ত অপরাধ বলা হয়।

উন্নত বিশ্বে সাইবার অপরাধকে অপরাধের তালিকায় শীর্ষে স্থান দেয়া হয়েছে , তৈরি করা হয়েছে সাইবার অপরাধীদের জন্য নতুন নতুন আইন। বর্তমান বিশ্বে বহুল আলোচিত কয়েকটি সাইবার ক্রাইম হলো – ১.সাইবার পর্ণোগ্রাফী ২. হ্যাকিং ৩. স্প্যাম ৪.এ্যাকশান গেম ৫.সাইবার বুলিং ইত্যাদি। বাংলাদেশে সাইবার ক্রাইমের পরিচিতি বা এ সংক্রান্ত অপরাধ দমনের জন্য সংশ্লিষ্ট আইনটি অনেকেরই জানা নেই ।

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইন ২০০৬ আমাদের এ বিষয়ে নির্দেশনা দেয় । এই আইনে ইন্টারনেট অর্থ এমন একটি আন্তর্জাতিক কম্পিউটার নেটওয়ার্ক যার মাধ্যমে কম্পিউটার, সেলুলার ফোন বা অন্য কোনো ইলেকট্রনিক পদ্ধতি ব্যবহারকারীরা বিশ্বব্যাপী একে অন্যের সঙ্গে যোগাযোগ ও তথ্যের আদান-প্রদান এবং ওয়েবসাইটে উপস্থাপিত তথ্য অবলোকন করতে পারে।

তথ্যপ্রযুক্তি আইন ২০০৬-এর ৫৬ ধারায় বলা হয়েছে, (১) যদিকোনোব্যক্তিজনসাধারণেরবাকোনোব্যক্তিরক্ষতিকরারউদ্দ্যেশেবাক্ষতিহবেমর্মেজানাসত্ত্বেওএমনকোনোকাজকরেন, যারফলেকোনোকম্পিউটাররিসোর্সেরকোনোতথ্যবিনাশবাতিলবাপরিবর্তিতহয়বাতারমূল্যবাউপযোগিতাহ্রাসপায়বাঅন্যকোনোভাবেএকক্ষতিগ্রস্তকরে(২) এমন কোনো কম্পিউটার সার্ভার, কম্পিউটার নেটওয়ার্ক বা অন্য কোনো ইলেকট্রনিক সিস্টেমে অবৈধভাবে প্রবেশ করার মাধ্যমে এর ক্ষতিসাধন করেন যাতে তিনি মালিক বা দখলদার নন, তাহলে তাঁর এই কাজ হবে একটি হ্যাকিং অপরাধ । কোনো ব্যক্তি হ্যাকিং অপরাধ করলে তিনি অনূর্ধ্ব ১০ বছর কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবেন এবং এক কোটি টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হতে পারেন বা উভয়দণ্ড দেওয়া যেতে পারে ।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *